নাকু-গামা

নাকু-গামা বাংলা শিশু ও কিশোর সাহিত্যে আমাদের সবার প্রিয় লীলা মজুমদারের একটি অবিস্মরণীয় সৃষ্টি। এ কাহিনী নাকু আর গামা নামে দুই বছর বারো-তেরোর ছেলের প্লেনের ফোর্সড ল্যান্ডিং-এর পর দুর্গম জঙ্গল পেরিয়ে বাড়ির পথ খুঁজে নেবার অভিযান।

স্রষ্টা = লীলা মজুমদার
ভাষা = বাংলা
গোত্র = অভিযানমূলক, শিশু ও কিশোর সাহিত্য

কাহিনী

ইস্কুলের পুজোর ছুটিতে বাড়ি যাবে নাকু। বাবার আপিসের ছোট প্লেনে চেপে। মা লিখেছেন,"ছুটিতে যদি আস সমবয়সি একজন বন্ধুকে এনো। গতবছরের মতো সারা ছুটি তোমাকে সামলানো আমার কর্ম নয়।" তা খেলার মাঠের বন্ধু গামাই এসে বললে, "আমাকে নাও"।
এদিকে আবার গামার প্লেনে চরতে ভয়। শেষে নতুন ডট পেনের লোভ দেখিয়ে নাকু তাকে রাজি করালে।তবু গামা আকাশে উঠবার সময় গোল জানলা দিয়ে বাইরে দেখল,মাঠটা কাত হয়ে রয়েছে,ভাবল লোকগুলো কেন সরসর করে পিছলে পড়ে যাচ্ছে না!

কিন্ত ওড়ার কিছুক্ষনের মধ্যেই প্লেনে কটকট করে শব্দ শুরু হল এবং ফোর্সড‌ ল্যান্ডিং করতে হল।দেখা গেল হামিদ কাকুর পায়ে চোট লেগে পা ফুলে কলাগাছ আর সমরেশ কাকুর শিঁরদাড়ায় এমনি চোট যে তিনি বাবাগো বোলে অজ্ঞান হলেন। এদিকে বেতার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। সমরেশ কাকুকে বাঁচাতেই হবে, নাকু-গামার কান্না কান্না পাচ্ছিল বটে কিন্তু হামিদ কাকুর বকুনিতে দিব্যি কাজ দিল। দুই বন্ধুতে রওনা হল পাঁচ নম্বর ক্যাম্পের দিকে গোয়ানার ঘন দুর্গম জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে। যে জঙ্গলে বাঘ,ভালুক,গন্ডার,অজগর সাপ,আরও নানা বুনো জানোয়ার এবং ভয়ানক হিংস্র কুমা জাতের জংলিরা থাকে যারা ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের দেবতার কাছে উৎসর্গ করে।

যেই বনের মধ্যে পা দিল বনটা ওদের গিলে নিল। হাঁটতে হাঁটতে পা টনটন, জলের ডোবা দেখে যেইনা জলে পা ডুবিয়েছে অমনি জোঁক কামড়ে ধরেছে, তারপরেই আবার বিশাল অজগর দেখে ছুটে পালাতে গিয়ে নাকু খাবারের থলে হারালে, হারান থলে খুঁজতে গিয়ে বাঘিনির সামনাসামনি। খিদের সময় খাবার বলতে বুনো শাঁকালু,লালচে কলা আর জল। রাত কাটানোর জন্য পাহাড়ি গুহা সেখানেও বুনো কুকুরের হামলা। পাহাড়ি হাতির দল কখনো বা গন্ডারের দল। বানডাকা নদী পেরিয়ে দাবানল এড়িয়ে শেষে সেই জংলিদের হাতে বন্দী ।

তারপরের ঘটনা অনেকটা স্বপ্নের মতন। শেষে ভয়ানক সব কান্ডের পরে নাকুগামাকে ৫নং ক্যাম্পের লোকেরা যে কি কোরে খুঁজে পাবে সেসব লোমোহর্ষক ঘটনা।

মূল চরিত্র

নাকু = নাকুর বয়স বছর বারো-তেরো, ছোট শহরের ইস্কুলে পড়ে
গামা = নাকুরই বয়সি তবে অন্য ইস্কুলে পড়ে, খেলার মাঠে বন্ধুত্ব হয়,
সবাইকে বলে বেড়ায় ওর বাবা গোয়ানার জঙ্গলে বুনিগাঁও-এর
সর্দার এবং নানারকম দুঃসাহসী কাহিনী বলে অবাক করে দেয়।
হামিদ কাকু = ইঞ্জিনিয়ার,একমুখ দাড়ি গোঁফ বেজায় হিংস্র চেহারা। পরে
প্লেন ল্যান্ডিং এর সময় আহত হন ও এনার বকুনি খেয়েই নাকু
গামা জঙ্গলের পথে রওনা হয়।
সমরেশ কাকু = প্লেনের পাইলট। প্লেন ল্যান্ডিং এর সময় মারাত্মক আহত
হয়ে জ্ঞান হারান।

নাকুর বাবা = সরকারি পরিকল্পনায় ধাতুর খনি খোঁজা, তেল খোঁজার কাজ করেন। ভারতের উত্তর পূর্ব দিকেই থাকেন। এখানেই নাকুরা আসছিল।

প্রকাশনা

"নাকু-গামা" (প্রথম প্রকাশনা ১৯৭৩)
এশিয়া পাবলিশিং

"চিরকালের সেরা" - লীলা মজুমদার
শিশু সাহিত্য সংসদ
৩২এ,আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোড
কলকাতা-৭০০০০৯

লীলা মজুমদার রচনাবলী(৬ খন্ডে) (প্রকাশনা ১৯৭৬-১৯৮৬)
এশিয়া পাবলিশিং

Unless otherwise stated, the content of this page is licensed under Creative Commons Attribution-ShareAlike 3.0 License